শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
“বাসের ভেতরেই ভয়াল ডাকাতি! ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, চালক-হেলপার সবাই লাপাত্তা!”
সানোয়ার হোসেন ছানু, ইসলামপুর জামালপুর
ঢাকা-শেরপুর-ঝিনাইগাতী মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসে অভিনব কায়দায় ডাকাতির সময় ভয়াবহ এক ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঝিনাইগাতীগামী বাসে হেলপার ও সুপারভাইজারের ছদ্মবেশে থাকা ডাকাতরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ পুরো বাস স্টাফ বাসটি ফেলে রেখে গা-ঢাকা দেয়। পরে পুলিশ চালক আলমগীর হোসেন (৩০)-কে অভিযান চালিয়ে আটক করে। রবিবার দুপুরে শেরপুর জেলার নকলা ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী জনবসতিহীন এলাকায় ঘটে ভয়াবহ এই ঘটনা।
আহত যাত্রী সাকিল আহমেদ (২৭), শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ১নং ডিজিটাল গণপদ্দী ইউনিয়নের বাড়ইকান্দী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এবং ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সাকিলকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা যায়, রবিবার সকালে ‘তাকিফ পরিবহন’ নামের বাসটি ঢাকার যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের কাছে কোনো ভাড়া বা টিকিট না চাওয়া, হেলপার ও সুপারভাইজারের কানাকানি—সব মিলিয়ে যাত্রীদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। দুপুরে নকলা শহর পেরিয়ে জনমানবশূন্য এলাকায় পৌঁছাতেই হেলপার সেজে থাকা দুই ডাকাত যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। আতঙ্কিত যাত্রীরা চিৎকার করলেও বাস থামানো হয়নি। সাকিল ডাকাতদের বাধা দিলে পিছন থেকে ছুরি মেরে আহত করে তারা।
খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত চেকপোস্ট বসায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক ও অন্যান্য স্টাফ বাস ফেলে পালিয়ে যায়। পরে চালককে আটক করা হয় এবং সাকিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ডাকাতচক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আহত সাকিল।